ক্ষমতার মসনদের লোভ এতোটাই বিশাল যে এ থেকে বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব। গলা পর্যন্ত ডুবে থাকা অন্যায় আর ভুল সিস্টেমে জর্জরিত একটা দেশ হঠাৎ করেই ফেরেশতা হয়ে উঠা সম্ভব নয়। বলা যায় গত হওয়া সিস্টেমটা এমন একটি ম্যাকানিজমে পৌছেছিলো যে প্রতিটা নাগরীককে চুরি করতে বাধ্য হতে হয়েছে। কেউ চুরি করে করে চুরিকে অভ্যস্ত হয়ে গেছে, আবার কেউ কেউ অনন্যপায় হয়ে চুরি করেছে। কেউবা চুরি করা না করা সমান ভেবে ও জেনে চুরিকে বেছে নিয়েছে।
উপর্যপরি চুরিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠা একটা জাতিকে রাতারাতি নিস্পাপ কাজে লাগাতে পারা অনেকটাই অসম্ভব। 
আরেকটা বিষয়টা খুব স্লো পয়জনিং এর মতো ঘটেছে। মানুষ বুঝে গেছে ক্ষমতা এবং চেয়ার যার সকল রকমের সুযোগ সুবিধা এবং প্রাপ্তি শুধু তারই জন্য। এতে করে গোপনে গোপনে মানুষ কঠিনতম ক্ষমতা লিপ্সু হয়ে উঠেছে। যেকোনো উপায়েই তারা ক্ষমতাকে বোগলদাবা করতে চায়।
প্রায় সকল বাবা-মা'য়ের সন্তানকে নিয়ে চ্যালেঞ্জ- তাকে ক্ষমতাধর বানাবে, হয় অফিসে নয় দোকানে। আর সমাজের সুচতুর আর পঁচে যাওয়া মানুষগুলো একটু অর্থ আর বিত্ব হলেও জায়গায় জায়গায় দৌড়ে বেড়ায় ক্ষমতার মসনদ খামচে ধরতে।
তাই, সম্ভোবত ক্ষমতার আসনগুলোতে সহসাই নিস্পাপ মানুষদের বসানো সম্ভব হবে না। শেষমেষ পুঁজগলা মানুষগুলোর অনেককেই হয়তো আবারো ক্ষমতার আসনে সহ্য করতে হবে।
তবেকি সদ্য ঝড়ে পরা তাজা রক্তের কোনো দাম পাওয়া যাবে না? সোনার বাংলা গড়ার সেই শ্বাসত স্বপ্ন তিমিরেই রয়ে যাবে?

কিছুতো একটা করা উচিত। কি সেটা? ক্ষমতার চেয়ারটা অর্জনের রাস্তাটা সহজ থেকে একটু কঠিন কি করা যেতে পারে? 
  • চেয়ারের জন্য নূন্যতম যোগ্যতার জায়গা কিছুটা উপরে নেয়া যেতে পারে।
  • চেয়ারের মালিককে নৈতিক যোগ্যতা সহ ধর্মীয় দায়িত্বে এগুনো থাকতে হবে।
  • চেয়ার পাবার আগে, পরে ও মাঝে মাঝে সে চুরি করছেনা সে পরীক্ষায় উত্তির্ণ হতে হবে।
  • সোজা কথা জবাবদিহিতামুলক ব্যবস্থাপনাকে চুড়ান্ত শক্তিশালি করতে হবে।
  • আমলা থেকে কামলা প্রত্যেকের জন্য জনতার জন্য ক্ষমতা দেখানোর মাত্রা এক হতে হবে।